ছিলেন ইমাম,হলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান

মাদরাসা, মসজিদ ও ওয়া;জের মাঠের চি;ন্তাবৃত্ত থেকে বের হয়ে আসছেন সময়ের তরুণ আ;লেমরা। তারা নিজেদের মেলে ধরছেন সমাজের মূলধারায় যুক্ত হচ্ছেন সাধারণ শি;ক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মিডিয়া, ব্যবসা ও রাজনীতিসহ সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে। সাফল্যও পাচ্ছেন কেউ কেউ, আবার কেউ সুদূর গন্তব্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। আশা, একদিন সমা;জের মূলধারায় একীভূত হয়ে সামাজিক নে;তৃত্ব দেবেন। সমাজসেবার উচ্চ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া তরুণ আলেমদের একজন ন;ন্দিত ইসলামী বক্তা মুফতি হেদায়াতুল্লাহ খান আজাদী।

তিনি গত ২১ জুন ২০২১ অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বরিশাল সদর ৬ নম্বর জা;গুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বা;চিত হয়েছেন। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলা;দেশের মনোনীত প্রা;র্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করেন। একটি সুনির্দিষ্ট দলের প্রার্থী হলেও প্রায় সব ধারার ইস;লামী রাজনীতিকরা তাঁকে স্বাগ;ত জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন এই আলেমের জয় দেশের তরুণ আলে;মদের রাজনীতিমুখী হতে উৎসাহিত করবে।

মু;ক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান মু;ফতি হেদায়াতুল্লাহ আজাদী শৈশব থেকেই ইসলামী রাজ;নীতিতে স্বক্রিয় ছিলেন। রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি হয় মু;ক্তিযোদ্ধা দাদার মাধ্যমে। সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার দাদা মাওলানা আবদুর রশিদ একজন বীর মুক্তি;যোদ্ধা ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি ১১৭ জন হি;ন্দু সনাতন ধর্মা;বলম্বীর জীবন র;ক্ষা করেন।

শৈশবে দেখেছি, তিনি প্র;তিদিন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের খোঁজ-খবর নিতেন, তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। কখনো কখনো ফজ;রের পর আমাকে সঙ্গে নিয়েও বের হতেন। মানুষের ভালো-মন্দ খবর নিতেন। এভাবে আমার ভেতর জন-স;ম্পৃক্ততা ও জনসেবার একটি আগ্রহ তৈরি হয়। সে আগ্রহ থেকেই মূলত রাজনীতিতে সম্পৃ;ক্ত হওয়া।’

মুফতি হেদায়াতুল্লাহ আ;জাদী জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদরাসা থেকে দাওরা এবং জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া থেকে ইফতা পাস করেন। পে;শাগত জীবনে তিনি একজন খতিব, শিক্ষক ও ইসলামী বক্তা। তিনি ঢাকার ধোলাইপাড়ের পুকুরপাড় জামে মস;জিদের খতিব এবং ইসলামী একাডেমি বাংলাদেশ নামক একটি ইসলামী স্কুলের পরিচালক। এ ছাড়া একজন বক্তা হিসেবেও ইতিমধ্যে মানুষের আ;স্থা অর্জন করতে শুরু করেছেন।

তবে পেশাগত জীবনে;র ব্যস্ততা তাঁকে কখনো জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। তাঁর ভাষায়—‘জাগুয়ায় খান পরিবারের আগে থেকে একটি ঐতিহ্য আছে, আমা;র আব্বার নানা আল্লামা আবদুল মু;য়িজ (রহ.) ছিলেন আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলিফা, দাদা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাবাহিনীর ধর্মীয় শিক্ষক, আমার আব্বাও একজন আলেম, আল্লাহর অনুগ্রহে বরিশাল অঞ্চলসহ সারা দেশে আমার একটা পরিচিতি আছে; কিন্তু আমি যখ;নই এলাকায় এসেছি মানুষের সঙ্গে মন খুলে মিশেছি। সব ব্যস্ততা পাশ কাটিয়ে সাধ্যানুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি, যা নির্বা;চনের সময় আমার জন্য আশীর্বাদ হয়েছে।’

মুফতি আজাদী মনে করেন, সমাজে ই;তিবাচক পরিবর্তন আনতে আলেমদের আরো বেশি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া উচিত। কেননা যে মানুষের ভেতর আল্লাহভীতি ও সততা নেই তার দ্বারা সমাজের কল্যাণ সাধন করা সম্ভব নয়। তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম জন;গণের আস্থার প্রতিদান তিনি কিভাবে দিতে চান? উত্তরে বলেন, ‘আমি মনে করি, একজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সৎ ও আন্তরিক হলে এবং সর;কারি দলের পক্ষ থেকে প্র;তিবন্ধকতা তৈরি করা না হলে অনেক কিছু করার সু;যোগ আছে।

আল্লাহ যদি আমাকে সুষ্ঠু;ভাবে দায়িত্বপালনের সুযোগ দেন, তবে প্রথমে জাগুয়ার রাস্তাঘাট উন্নয়নে নজর দেব। সরকারি বরাদ্দ ও সেবাগুলো উ;পযুক্ত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেব, মাদক ও সন্ত্রাস বন্ধের উদ্যোগ নেব এবং করোনাসহ নানা দু;র্যোগে যেসব পরিবার ক্ষ;তিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’ মুফতি আজাদী আশা করেন তাঁর দল, দলীয় কর্মীরা, এলাকার জনগণ নির্বাচনের আগে যেভাবে তাঁর ওপর আস্থা রেখেছে এবং সহযোগিতা করেছে, নির্বাচনের পরও তারা আন্ত;রিকভাবে পাশে থাকবেন। তিনি মহান আল্লাহ এবং তাঁদের সবার প্র;তি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.