মাদকাসক্তির জীবন ছেড়ে ইসলামের ছায়াতলে ব্রিটিশ তরুণী

যুক্তরাজ্যের হাডার্সফিল্ডে জন্ম ও বেড়ে ওঠেন পারসেফন রিজভি নামের তরুণী । পড়াশোনা, ক্যারিয়া গঠন ও জীবনের নানা ঘটনাপ্রবাহ বদলে দেয় ২৭ বছর বয়সী এ নারীর বিশ্বাস। সম্প্রতি বিবিসি থ্রি তাঁর বদলে যাওয়া জীবনের একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করে।

এক সময় পারসেফন লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে হাডার্সফিল্ড ছেড়ে ম্যানচেস্টারে চলে যান তিনি। এরপর গত এক দশকের মধ্যে আর নিজ বাড়িতে আসেননি । নতুন মুখ ও নতুন পরিচয় নিয়ে পারসেফন পুরোনো পরিচিত লোকেদের দেখতে আসেন। এরপর নিজেকে মানুষের সেবায় নিযুক্ত করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুরুর আগে একটি কল সেন্টারে সামার জবে যুক্ত ছিলাম আমি। সেখানে হালিমা নামে আমার এক বা;ন্ধবী ছিল। তার সঙ্গে প্রথমে রমজান রোজা রা;খা শুরু করি। তখনও আমার মধ্যে ধ;র্মে যুক্ত হওয়ার মনোভাব তৈরি হয়নি। এটাই ছিল আমার প্রথম ইসলাম পালন। দুরন্ত সাহসী মনো;ভাবের কারণে আমি শুধু ভাবছিলাম, ‘এটা শুধুমাত্র ৩০ দিন। আমার জন্য তা কোনো কিছুই নয়।’

পারসেফন বলেন যে, ‘আমি খুবই অল্প বয়সেই মদ্যপান শুরু করি। ফলে আমার সঙ্গে কিছু দুর্ভাগ্য;জনক ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে পরিবারের সবার সামনে আমার পে;টে ফুলে যাওয়া, খুবই দুঃখজন;ক ছিল। এরপর ইসলামের সন্ধান আমাকে বদলে দিয়েছে। শুরুতে তা আমাকে খুবই মু;গ্ধ করেছিল। মদপান ও পার্টিতে অংশ নিলেও তা আমার জন্য খুবই প্রয়ো;জন ছিল। তাই এটিই ছিল অতীতের লোকদের সঙ্গে সাক্ষা;তের উত্তম সময় ছিল।’

প্রথমবার রোজা রাখার পরও আমার মদপান ও পার্টিতে অংশ গ্রহণের অভ্যাস ব;ন্ধ ছিল না। তবে আমার আচার-ব্যবহারে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়। আমার মনোভাব অনে;কটা এমন ছিল, ‘আমি অমুকের চেয়ে ভালো আছি। আমাকে আরো ভালো হতে হবে।’ ত্যাগের মাসটি আমার মধ্যে নিঃস্বার্থ;তা ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি বোধ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে আমি নিজের প্রতি যত্ন নেওয়ার প্যাকেজ পেয়েছি যা আমার খুবই প্রয়োজন ছিল। মূলত এটাই ছিল আমার ইসলাম গ্রহণের ‘ক;লিং কার্ড’ আমন্ত্রণপত্র।’

স্কুল জীবন থেকে পারসেফন খুবই সাহসী ও প্রাণব;ন্ত ছিলেন। জনপ্রিয় সব চরিত্রে দুর্দা;ন্ত অভিনয়ের সুযোগ হয়েছিল তাঁর। ফলে অল্প বয়স থেকেই সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। পারসেফন বলেন, আমি কখনো কোনো কিছু বলতে ভ;য় পাইনি। এখনও কোনো কিছু ভ;য় পাই না।

‘পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে আমি পুনরা;য় যোগাযোগ শুরু করি। তাদের কী করছে, তাদের জীবন কেমন কাটছে এসব বিষয় জানার চেষ্টা করি। তারাও আমার সম্পর্কে জানতে খুবই কৌতুহলী ছিল। কারণ সা;মা;জিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল। কিন্তু তখন আমি সামাজিক যোগাযোগ প্লট;ফর্মে খুবই এ;ক্টিভ।’

ইসলাম গ্রহণের পরের ঘটনা বর্ণ;না করে পারসেফন বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণের পর প্রথম দিকে খু্বই চা;প বোধ করতাম। তবে ওই সময় নিজের ব্যাপারে খুবই প্রতিশ্রুতিব;দ্ধ ছিলাম। আমি অনেকটা নতুন বস্তুর সন্ধান পাওয়া ব্যক্তির মতো ছিলাম যে নিজেকে গভী;রে সপে দিয়েছে। আমি বুঝতে পারি যে আমাকে অনেক বিষয়ে সংযম করতে হবে এবং ধর্মীয় সীমারেখার মধ্যে থাকতে হবে। ধারাবাহিক সর্বাত্ম;ক প্রচেষ্টা;র মাধ্যমে তা সম্ভব হয়েছে।’

আমি সানডে স্কুলে পড়ে বড় হয়ে;ছি। আমার বাবা-মা চাইত আমি ও আমার বোন যেন বি;শ্বাসী হই। আমার বাবা ছিলেন ব্ল্যাক ব্রিটিশ। তিনি নিয়মিত চা;র্চে যেতেন। আমার মা চেয়েছেন আমরা যেন ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে জানি। কিন্তু তাদের কেউ আমাদের বাধ্য করেন;নি। আমাদের পরিবারের কেউ প্রেক্টি;সিং মুসলিম ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে আমি গুরুত্ব;সহ ইসলাম নিয়ে গবেষণা শুরু করি। মুসলিম হওয়ার কথাও ভাবছিলাম। সালফোর্ডের ইউনিভার্সিটি ও হাডার্সফিল্ডে আমার বাবা-মায়ের বাড়ির মধ্যেই আমার যাতা;য়াত ছিল। কিন্তু ইসলামের প্রতি আমার আগ্রহের কথা তারা জানত না। হঠাৎ একদিন আমি মাথায় স্কার্ফ দিয়ে ঘরে ঢুকে বল;লাম, ‘আমি এখন মুসলিম!’

আমার কথা শুনে বাবা-মা বেশ অবাক হলেও তারা অ;সন্তুষ্ট ছিলেন না। তারা আমাকে অনেক প্র;শ্ন করে নিশ্চিত হতে চাইছিলেন যে আমি সঠিক সি;দ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বাবা আমাকে বেশ উ;চ্ছ্বসিত দেখতে পান। প্রথম দিকে আমি পবিত্র কোর;আনের ব্যাখ্যা সঠিকভাবে না বুঝেই অনেক কিছু করতে চেয়েছি। অনেক সময় কঠোর ও দৃঢ় বিশ্বা;সের সঙ্গে সবকিছু করতে চেয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *